How Chandannagar celebrates Jagadhatri Puja?

অল্পদিন আগেই প্রতি বছরের মতো এ বছরও হুগলী জেলার চন্দননগরে মহা ধুম-ধাম করে মা জগদ্ধাত্রীর আরাধনা সুসম্পন্ন হয়ে গেল। শারদীয়া দুর্গা পূজার পরের শুক্ল পক্ষের সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত এই পূজার আয়োজন করা হয়ে থাকে। অবশ্য কেবল মাত্র চন্দননগর-ভিত্তিক সার্বজনীন বা বারোয়ারী এই পূজা চার দিনের, অন্যান্য জায়গায় ও বাড়ির চারদিনের পূজাই নবমীর দিনেই সম্পন্ন হয়ে থাকে এবং শাস্ত্র মতে তাই বিধেয়। চার দিন পূজা করার প্রধান কারণ হলো অধিক সংখ্যক মানুষের পূজার আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ করে দেওয়া আর অত্যধিক খরচ করে পূজার ব্যবস্থা করে এক দিনেই শেষ করে দেবার বদলে, কিছুটা বেশি সময়কাল ধরে আনন্দ করা।

এই পূজা উপভোগ করতে দুর-দূরান্ত থেকে দর্শক বা ভক্ত জনের উপস্থিতি হয় চন্দননগরে। প্রবাসী বাঙালীরা যেমন শারদীয়া পূজার সময় দেশের বাড়ি ফিরতে উৎসুক থাকেন, এখানকার প্রবাসী সন্তানেরা শারদীয়ার সময় নিজেদের কুলায় না ফিরে জগদ্ধাত্রী পূজায় ফেরার জন্যে তাকিয়ে থাকেন। এত যাত্রীর সমাগম হবার কারণে রেল কর্তৃপক্ষ কয়েক বছর আগে পর্যন্ত এখানে আসার জন্যে পিলগ্রিম ট্যাক্স সংগ্রহ করতো। এখন সারা ভারতেই এই ট্যাক্স সংগ্রহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

চন্দননগরেই এই পূজার বাড়-বাড়ন্ত, অন্য জায়গায় নয় কেন, বা এখানে কেন ও কবে থেকে এই পূজার প্রচলন? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা স্বাভাবিক। আর এও স্বাভাবিক যে এর উত্তর সঠিক পাওয়া যায়নি, দ্বিমত আছে। আমার মতে এর কারণ ইতিহাস রচনা আমাদের স্বভাবে নেই, লিখিত বিবরণ থাকলে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না। যাই হোক, যা এখনো পর্যন্ত জানা গেছে তার পর্যালোচনা করা যাক।

১। কথিত যে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র (১৭১০-৮৩) তৎকালীন বাংলার নবাব মিরকাসিমের কাছে সময়ে খাজনা না দেবার কারণে মুর্শিদাবাদে বন্দি ছিলেন সে বছর (১৭৬১) শারদীয়া পূজার সময়। কাজেই দুর্গা পূজা করা সম্ভব হয়নি। তবে ছাড়া পেয়ে বিজয়াদশমীর দিনে নৌকায় ফেরার পথে স্বপ্নাদিষ্ট হন কার্তিক শুক্লা নবমীর সময় জগদ্ধাত্রী পূজা করার জন্যে। যথাবিহিত ভক্তি সহকারে তিনি জগদ্ধাত্রী পূজা করেন। এর পর তিনি বিভিন্ন জায়গায় এই পূজার প্রচলনে উদ্যোগী হন। এই সূত্রেই তাঁর দেওয়ান দাতারাম সুর চন্দননগরের দক্ষিণে ভদ্রেশ্বরের গৌরহাটি বা গরুটি গ্রামের বাড়িতে ১৭৬২ সালে জগদ্ধাত্রী পূজা আরম্ভ করেন। এও কথিত যে রাজা নিজে নাকি দাতারাম সুরের বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলেন এই সময়ে। তবে এই কথা নিশ্চয় অতিরঞ্জিত কেননা তখন কৃষ্ণনগর রাজবাটীতেও নিশ্চয় পূজা হচ্ছিল এবং পূজার সময় নিজ বাটি ছেড়ে গৌরহাটিতে আসবেন তা ভাবাই যায়না। যাই হোক এই পূজা এখানে বাড়ির পূজা হিসাবেই চালু হয়েছিল প্রথমে।

২। সার্বজনীন বা বারোয়ারী পদ্ধতিতে পূজা ১৭৯০ সালে এখানকার প্রধান বাজার এলাকা লক্ষ্মীগঞ্জের চাউলপটিতে স্থানীয় চালের ব্যবসায়ীরা আরম্ভ করেন। যদিও এখানকার কাপড়েপটিতে আজকাল বলা হচ্ছে যে আনুমানিক ১৭৬৮তে পূজা আরম্ভ হয়। যদি সত্য হয় তা হলে চাউলপটির থেকে এখানকার পূজা প্রাচীনতর। তবে এ কথা কেহই বিশ্বাস করেন না। যা জানা গেছে যে চাউলপটির পরে কাপড়েপটিতে পূজা আরম্ভ হয় এবং গঞ্জের সকল প্রকার ব্যবসায়ীরা সম্মিলিত ভাবে নয়, গোষ্ঠী-গত হয়ে পূজার সূত্রপাত করেন। লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারের আর দুটি পূজা অবশ্য যথাক্রমে বাজার (মূলাপটি) ও চৌমাথা (মাড়োয়ারিপটি) নাম নিয়ে একেবারে বিংশ শতাব্দীতে, ১৯০৩ ও ১৯৩৩ সালে আরম্ভ হয়। চন্দননগরের আর দুটি প্রাচীন পূজা বাগবাজারের (১৮৩৪) ও আদি হালদারপাড়ার। যদিও দ্বিতীয় ক্ষেত্রে প্রামাণিক নথীর অভাব আছে।

গৌরহাটি তেঁতুলতলা ও ভদ্রেশ্বর গঞ্জের সার্বজনীন পূজাও বেশ প্রাচীন, যথাক্রমে ১৭৯৩ ও ১৮০৯ সালে আরম্ভ হয়। বলা হয় তেঁতুলতলার পূজা আসলে দাতারামের বাড়ির পূজা। দাতারাম গত হবার পর পূজা বন্ধ হবার উপক্রম থেকে বাঁচাবার জন্যে স্থানীয় অধিবাসীরা উদ্যোগ নিয়ে পূজা চালু রাখেন। সেই সূত্রে এঁরা এই পূজাটিই চন্দননগরের প্রাচীনতম জগদ্ধাত্রী পূজা বলে দাবী করেন।

ঐতিহাসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে চন্দননগর বা ফরাসডাঙ্গার লক্ষ্মীগঞ্জের ব্যবসায়ীদের ওই সময় আর্থিক অবস্থার প্রভূত উন্নতি সাধন হয়। তাই তাঁরা রাজা-রাজড়াদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষমতা অর্জন করেন। ফলস্বরূপ এই গোষ্ঠী-গত পূজায় তাঁরা মেতে উঠতে পারেন।

দাতারাম সুরের প্রবর্তিত প্রথম কয়েকবছরের পূজা ছাড়া লক্ষণীয় যে বাকি সকল জায়গার পূজাগুলো একক ব্যবস্থার ব্যতিরেকে গোষ্ঠী-গত পরিচালনায় সংগঠিত। যা সেই সময়কার প্রচলিত পূজা ব্যবস্থার পরিপন্থী। অনেকে এই গোষ্ঠী-গত ভাবে পূজার ব্যবস্থা করায় একক প্রভুত্বের উপর (জন) সাধারণের জয়-যাত্রার প্রতীক মনে করতে আরম্ভ করেছেন কিন্তু ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক উন্নতির কথাটা কি করে বিস্মৃত হবো। কাজেই তাঁদের সঙ্গে সাধারণ অধিবাসীর তুলনা হয় না। যাই হোক, সে যে রকম ভাবেই বিশ্লেষণ করা হউক না কেন এটা নিশ্চয় এক বিশেষ ঘটনা। অভূতপূর্ব আখ্যা মনে হয় দেওয়া যাবে না, কেন না যদি ঠিক ১৭৯০ সালেই চাউলপটির পূজা আরম্ভ হয়ে থাকে এবং গুপ্তিপাড়ার বারোয়ারি (বারো-ইয়ারি) দুর্গা পূজা ১৭৬১ বা ১৭৯০ (বছর সম্পর্কে দ্বিমত আছে) সালে শুরু হয়ে থাকে, সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না যে চাউলপটির ব্যবসায়ীরা গুপ্তিপাড়ার বারো জন বন্ধু (বা ইয়ারি) ব্রাহ্মণ সন্তান যাঁদের সেন বাড়ির বাৎসরিক দুর্গা পূজায় অংশ গ্রহণ করতে না দেবার কারণে যে বৈপ্লবিক ও অভূতপূর্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, তার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। ১৭৬১ সালে না হয়ে ১৭৯০ সালে গুপ্তিপাড়ার এই পূজার ব্যবস্থা হলেও চাউলপটিতে সেই খবর আসবার জন্যে অন্তত একমাস সময় পাওয়া গিয়েছিল।

Tematha Old Image | Jagadhatri Puja History

উল্লিখিত এই ইতিহাস কতটা সঠিক আমি বলতে পারব না, কারণ সমস্ত তথ্যই প্রমাণিত কি না জানা নেই। আমার মনে হয় এ গুলো সবই শোনা কথার ভিত্তিতে লিখিত, প্রাথমিক উৎস থেকে নেওয়া নয়। প্রাথমিক তথ্য পাওয়া খুব কঠিন হবে বলে মনে হয় না, কোনও ফরাসি জানা এবং প্রকৃত ইতিহাসবিদ যদি তথ্যের খোঁজ করেন হয়তো এই বিষয় পরিষ্কার হবে। ফরাসি জানা ইতিহাসবিদের কথা এই জন্যে বললাম যে এখানে জগদ্ধাত্রী পূজা শুরু হবার প্রায় ৭৫ বছর আগে থেকেই যদিও নিরবচ্ছিন্ন ভাবে না হলেও চন্দননগরের অধিকার ফরাসিদের হাতে ছিল। স্বাভাবিক ভাবে তাদের বিভিন্ন দপ্তরে এই সম্পর্কে লেখা নিশ্চয় আছে।

এটা নিশ্চিত যে এই প্রায় ২৫০ বছর ধরে এই পূজার ব্যবস্থাপনা, জাঁকজমক, ভক্ত বা দর্শক সমাগম, সব কিছুই পরিবর্তিত হয়েছে। এই পূজার বহু বৈশিষ্ট্যের মধ্যে প্রতিমার উচ্চতা ও ডাকের অর্থাৎ সোলার সাজের উল্লেখ করতেই হয়। জানা নেই যে প্রথম থেকেই মাতার মুখমণ্ডলের ভূমি থেকে উচ্চতা প্রায় ৪.৫ মিটার আর চালচিত্রের উচ্চতা এর দ্বিগুণ অর্থাৎ প্রায় ৯ মিটার হতো কি না। তবে গত ৫০ বছরের অধিক, যা আমার নিজস্ব অভিঙ্গতা আছে, এই উচ্চতাই দেখে আসছি। আগে হয়ত এমন প্রতিমা অল্প সংখ্যক সার্বজনীন পূজায় হতো, এখন সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অল্প দু-একটা প্রতিমার ডাকের সাজে রং চোখে পড়ে, প্রায় সব প্রতিমারই সাজ, চালচিত্র সহ শুভ্র। অনেকের মনে হতে পারে বৈচিত্র্যের অভাব, আমরা অবশ্য এ বিষয়ে ভীষণ ভাবে রক্ষণশীল। প্যান্ডেলের রকমফের তুলনামূলক ভাবে কম, মনে হয় অনেক বারোয়ারি পূজার জায়গার অভাবই এর কারণ। তবে ইদানীং যাকে ‘থিমেটিক’ প্যান্ডেল বলা হয়, তার সংখ্যা বাড়ছে। অসংখ্য মানুষের উপস্থিতিতেও যতটা সম্ভব কম দূষণ হয় তার চেষ্টা করা হয়। মায়িকে গান বাজানোয় শোভনতা রক্ষা করে যাতে ন্যূনতম শব্দ দূষণ হয় তা লক্ষ রাখেন বিভিন্ন সার্বজনীন পূজা সমিতিগুলি। এ সত্ত্বেও কিছু ত্রুটি থেকে যায় যেমন বহু জায়গায় বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা। এবারে এক প্রধান ও বড় পূজা সমিতির প্যান্ডেলে খাঁচায় করে অসংখ্য জীবিত পাখি রাখা হয়েছিল যারা প্রায় চার দিন ধরে সমানে ভিড়ের মাঝে সন্ত্রস্ত হয়ে ঘুমাতে পারেনি। দেখা গেছে গভীর রাতে দর্শকেরা তাদের বিরক্তও করছে।

যে বিষয়ে এখানকার পূজা এখন অনন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা হলো আলোর সাজ। এখানকার এই শিল্প এখন পৃথিবী বিখ্যাত হয়ে গেছে। আমি নিজে দেখেছি প্রতিবেশী রাজ্যের মানুষেরা সার বেঁধে কাঁধে করে গ্যাসের বাতি নিয়ে যাচ্ছে প্রতিমা নিরঞ্জনের মিছিলে বা সেই বাতি প্যান্ডেলে সাজিয়ে রাখা রয়েছে আজ থেকে ৫০/৬০ বছর আগে। সেখানে এখন বড় বড় বোর্ডে আধুনিকতম বাতি দিয়ে পৃথিবীতে গত কালকার ঘটনা থেকে আরম্ভ করে প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষের জীবনযাত্রা আলোয় নির্মিত চলমান ছবির দ্বারা দেখান হচ্ছে। এই রকমই শিল্প বছর ৫/৭ আগেও রোলার আর মোটরের সাহায্যে করা হতো। এখন সেই কাজই আধুনিকতম ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের মাধ্যমে করা হচ্ছে। এখানকার এই আলোক-শিল্পীদের কীর্তি সারা ভারত কেন, বিশ্বের উন্নত দেশ গুলিতেও বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে। তবে দুঃখের কথা উল্লেখ না করে পারছিনা যে এই শিল্পীরা তাদের গুণের উচিত মূল্য পাচ্ছেন না।

এই ধরনের উৎসবে জন-সমাগম হবে না তা ভাবাই যায় না ।

শুক্লা ষষ্ঠী থেকেই দশমীর প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রা দেখার দিন পর্যন্ত প্রতিদিন কয়েক লক্ষ করে ভক্ত বা দর্শক সমাগম হয়। ছোট্ট শহরের নাগরিক পরিসেবার উপর ভীষণ চাপ পড়ে। পৌর প্রতিষ্ঠান এই সময় যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে পরিসেবা চালু রেখে আসছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাধুবাদ দিতে হয় যে নিত্য দিনের ভোগ্য পণ্যের মূল্য সারা দেশের অন্য সময়ের মতই স্থির থাকে, মূল্য বৃদ্ধি হয় না বা সরবরাহের ঘাটতি ঘটে না। এত অধিক লোক সমাগম হওয়া সত্ত্বেও শান্তিশৃঙ্খলার অবনতি তেমন হয় না বিশেষ করে প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রা যা সারা রাত, এমন কি পরের দিন দুপুর পর্যন্ত হতে থাকে চন্দননগর এলাকার সমস্ত সার্বজনীন পূজা সমিতির মিলিত মহাসমিতি (সেন্ট্রাল কমিটি) পুলিশ প্রশাসন ও পৌর সমিতির যৌথ পরিচালনায়, প্রতি বছর ন্যুনতম বিঘ্নতায় তা সংঘটিত হয়।

চন্দননগরের এই জগদ্ধাত্রী পূজার সব কিছুই বিরাট ভাবে হয়। সার্বজনীন হলে কি হবে, ভক্তি, শ্রদ্ধা, নিয়ম, নিষ্ঠা কোনটারই ঘাটতি বেশির ভাগ পূজা প্যান্ডালেই হয় না। বিশেষ করে নবমীর পূজা তো বটেই। অনেক জায়গায় এইদিন মহিলারা ‘ধুনা পোড়ানো’ বলে এক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন।

যেখানে এত মানুষের উপস্থিতি হবে সেখানে অস্থায়ী দোকান পাট অর্থাৎ মেলা বসবে না তাও কি হয়। সারা শহরটার রাস্তার ধারে রোজকার ঘর-সংসারের বাসন-পত্র, পূজার তৈজস-পত্র, তার সঙ্গে শিব-লিঙ্গ, ঘর সাজাবার ও মনোহারি সামগ্রী, কি পাবেন না? ধর্ম মানুষের আফিম বলেও ভিড়ের মধ্যে ফায়দা তোলার লোভে তাদের মতাদর্শের বই বেচার স্টল করে বসে বলে এ তো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দোৎসব। আর হ্যাঁ, সর্বাধিক সংখ্যক দোকান হয় ‘ফাস্ট ফুডের’ আর ওমলেট, বাদাম ভাজা ইত্যাদির। এদের বেচা-কেনা প্রধানত রাতেই। রাত জেগে মানুষ ঘুরে ঘুরে ঠাকুর, প্যান্ডেল ও রাস্তার আলো দর্শন করার ফাঁকে ইঞ্জিনে তেল ভরবে যে।

এত বিরাট প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্যে কি প্রকার ব্যবস্থা করতে হয় তা দেখবার মতো। বেদি থেকে প্রতিমা সরানো, বরণ করা, সোনা-রুপার গহনা খুলে রাখা, ট্রাকে তোলা, সবেরই বৈশিষ্ট্য আছে।

এর পর সারা শহরের প্রধান রাস্তায় সার দিয়ে ট্রাকে তোলা প্রত্যেকটি প্রতিমার সামনে কয়েকটি ট্রাকে চলমান বিভিন্ন ছবির আলোয় বর্ণনা করা বোর্ড সাজিয়ে আর বাদ্য রত ঢাকির দল, ব্যাগ-পাইপ বাজানোর দল, আদিবাসী নৃত্য করার দল আর তার সঙ্গে নব্য যুবকদের নব্য নৃত্য সহ দল ধীরে ধীরে চলেছে জগন্মাতা জগদ্ধাত্রীকে নিয়ে পরম শান্তিময় সুরনদীতে বিসর্জন দিতে।

নিরঞ্জনের মিছিলের শেষে একে একে ট্র্যাকের ওপরে করে কেবল মাত্র প্রতিমা গঙ্গার পারে নিয়ে আসা হয়, শোভাযাত্রার বাকি অংশ কিছু আগেই সরিয়ে নিয়ে যে যার সুবিধা মতো স্থানে চলে যায়, যা প্রধানত নিজেদের প্যান্ডেলের কাছে হয়ে থাকে। গঙ্গার ধারে মোটামুটি চারটি জায়গা আছে যেখানে প্রতিমা বিসর্জন দেবার প্রক্রিয়া ঠিক মতো হতে পারে। মোট প্রায় ২৫০টি পূজা হয়ে থাকে তার মধ্যে বিভিন্ন কারণে সব কটি বারোয়ারি নিরঞ্জন শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করতে পারে না। এই বছর মোট ৭৯টি বারোয়ারি শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করেছিল।

হয়তো আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ এই বিরাট কর্ম- ও ধর্ম-যজ্ঞে শামিল হয়েছেন কোনও বার। না হলে, না হলেই বা কেন, হলেও আবার এখানে ওই সময় আসতে আহ্বান জানাচ্ছি চন্দননগরবাসীর পক্ষ থেকে। আজকাল এখানে ওই সময় আসার জন্যে যানবাহনের ঢালাও বন্দ্যোবস্ত করা হয়ে থাকে বিভিন্ন পরিসেবাকারী সংস্থা থেকে। তাই আগের তুলনায় এই উৎসবে শামিল হয়ে ঘরে ফিরে যাবারও বিশেষ অসুবিধায় পড়তে হয় না।

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পূজার ছবি দেখাতে গেলে কেবল মাত্র কয়েকটি প্রতিমার ছবি, কিছু প্যান্ডেলের আর কিছু রাত্রিবেলার রাস্তায় আলোর কারি-কুরির ছবি দেখালেই সম্পূর্ণ হয় না। পূজার ব্যবস্থাপনার সময় থেকে ক্রমশ কেমন ভাবে বিরাটাকার প্রতিমা পূজার বেদিতেই গড়ে উঠছে আর তার সঙ্গে কেমন ভাবে শহর সেজে উঠছে, তার ছবিও দেখার মতন।

Close Menu